ইমাম পরিচিতি · ব্যাখ্যাকার ও রিজালের ইমাম
ইমাম ইবনু কাসীর
ابن كثير
তাফসীর ইবনু কাসীর ও আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়ার লেখক
ইমাদুদ্দীন আবুল ফিদা ইসমাঈল ইবনু উমার ইবনি কাসীর আল-কুরাশী আদ-দিমাশকী
চার বছর বয়সে বাবাকে হারানো এই ছেলে বড় ভাইয়ের হাত ধরে দামেশকে আসেন। কুরআন দিয়ে কুরআনের, তারপর হাদিস দিয়ে তাফসীরের যে নিয়ম তিনি মেনেছেন, তা আজও সবচেয়ে পড়া তাফসীরগুলোর একটি।
- জন্ম
- প্রায় ৭০০-৭০১ হিজরি (১৩০০ খ্রি.)
- জন্মস্থান
- মিজদাল গ্রাম, বুসরার কাছে (হাওরান) · আজকের সিরিয়া
- মৃত্যু
- ২৬ শাবান ৭৭৪ হিজরি (১৩৭৩ খ্রি.)
- কোথায়
- দামেশক; দাফন ইবনু তাইমিয়ার পাশে, সূফিয়্যা কবরস্থানে
- বয়স
- প্রায় ৭৪ বছর
- প্রধান গ্রন্থ
- তাফসীরুল কুরআনিল আযীম ও আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া تفسير القرآن العظيم
পরিবার ও শৈশব
বাবা উমার ছিলেন মিজদাল গ্রামের খতীব; ইবনু কাসীরের বয়স যখন প্রায় চার, বাবা মারা যান। ৭০৭ হিজরিতে বড় ভাই আব্দুল ওয়াহহাবের সাথে দামেশকে আসেন (ইবনু কাসীর নিজে আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়ায় বাবার মৃত্যুর বছরে এটা লিখেছেন)। পরে শিক্ষক মিযযীর মেয়েকে বিয়ে করেন।
শিক্ষা ও জ্ঞানের সফর
দামেশকেই তাঁর পুরো শিক্ষাজীবন: মিযযীর কাছে রিজাল, যাহাবীর কাছে ইতিহাস, ইবনু তাইমিয়ার কাছে তাফসীর ও আকীদা। দামেশকের বহু মাদরাসা ও উমাইয়া মসজিদে পড়িয়েছেন (ইবনু হাজার, আদ-দুরারুল কামিনা)।
শিক্ষক
- শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়া
- আবুল হাজ্জাজ আল-মিযযী (শ্বশুর)
- আয-যাহাবী
- আল-বিরযালী
ছাত্র
- ইবনুল জাযারী (কিরাআতের ইমাম)
- ইবনু হিজজী
যেভাবে কাজ করেছেন
- ১তাফসীরের ধাপ
আগে কুরআনের অন্য আয়াত দিয়ে, তারপর হাদিস, তারপর সাহাবিদের কথা, তারপর তাবিঈদের কথা দিয়ে আয়াতের ব্যাখ্যা; বেশিরভাগ হাদিস সনদসহ এনে মান বলেছেন।
- ২ইসরাঈলী বর্ণনায় সতর্কতা
বনী ইসরাঈলের গল্পগুলো উল্লেখ করলেও বলে দিয়েছেন সেগুলো নিশ্চিত নয়, অনেক জায়গায় বাতিল বলেছেন।
- ৩ইতিহাসে সনদ
আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়ায় সীরাত ও ইতিহাসের বর্ণনার সনদ নিয়ে প্রায়ই মন্তব্য করেছেন।
তাঁর গ্রন্থ: তাফসীরুল কুরআনিল আযীম ও আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া
তাফসীরুল কুরআনিল আযীম: সংক্ষেপিত ও অনূদিত হয়ে বাংলাসহ বহু ভাষায় সবচেয়ে প্রচলিত তাফসীরগুলোর একটি।
আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া: সৃষ্টির শুরু, নবীদের কাহিনি, সীরাত, ইসলামের ইতিহাস থেকে তাঁর নিজের যুগ পর্যন্ত, শেষে কিয়ামতের আলামত। এই সাইটের নবী ও সীরাত পাতায় এটি প্রধান সূত্রের একটি; তবে এর প্রতিটি বর্ণনা সহিহ নয়, তাই আমরা সনদ ও মান দেখে নিই।
অন্য বই: জামিউল মাসানীদ, ইখতিসারু উলূমিল হাদিস।
পরীক্ষা ও শেষ জীবন
শেষ বয়সে দৃষ্টিশক্তি হারান। ৭৭৪ হিজরির ২৬ শাবান দামেশকে মারা যান, তাঁর ইচ্ছামতো শিক্ষক ইবনু তাইমিয়ার কবরের পাশে দাফন হন (ইবনু হাজার, আদ-দুরারুল কামিনা; ইবনুল ইমাদ, শাযারাতুয যাহাব)।
আলেমদের চোখে
তিনি ছিলেন প্রখর স্মৃতিশক্তির অধিকারী, রসিক; তাঁর জীবদ্দশাতেই তাঁর বই বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে।
ইবনু হাজার · আদ-দুরারুল কামিনা
জীবনের সময়রেখা
| হিজরি | খ্রিস্টাব্দ | ঘটনা | সূত্র |
|---|---|---|---|
| প্রায় ৭০০ | ১৩০০ | মিজদালে জন্ম | আদ-দুরারুল কামিনা |
| ৭০৩ | ১৩০৪ | বাবার মৃত্যু | আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া |
| ৭০৭ | ১৩০৭ | ভাইয়ের সাথে দামেশকে | আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া |
| ৭৭৪ | ১৩৭৩ | দামেশকে ইন্তেকাল | আদ-দুরারুল কামিনা |
সূত্র
- ইবনু হাজার, আদ-দুরারুল কামিনা
ইসমাঈল ইবনু উমার - ইবনু কাসীর, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া
৭০৩ ও ৭০৭ হিজরির ঘটনায় নিজের কথা - ইবনুল ইমাদ, শাযারাতুয যাহাব
৭৭৪ হিজরির মৃত্যু
সিয়ারের খণ্ড ও পৃষ্ঠা মুআসসাসাতুর রিসালাহ সংস্করণ অনুযায়ী। হাদিসের সংখ্যা সংস্করণ ও গণনার ধরনভেদে কিছুটা আলাদা হয়; কোন সংস্করণের সংখ্যা, তা পাশে লেখা। জন্মসাল বা মৃত্যুস্থান নিয়ে মতভেদ থাকলে দুই মতই দেওয়া হয়েছে। কোনো ভুল চোখে পড়লে জানান, সূত্রসহ সংশোধন করা হবে। আরও দেখুন: সূত্র নীতি।