deenpediaকুরআন ও সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য পাঠাগার
deenpediaকুরআন ও সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য পাঠাগার

وَلِلَّهِ الْعِزَّةُ وَلِرَسُولِهِ وَلِلْمُؤْمِنِينَ

হামযা ও উমরের (রা.) ইসলাম: যেদিন মুসলিমরা মাথা উঁচু করলেন

মুসলিমরা তখন সংখ্যায় কম, লুকিয়ে নামাজ পড়েন। এমন সময়ে মক্কার দুই সবচেয়ে সাহসী মানুষ ইসলাম গ্রহণ করলেন: নবীজির (ﷺ) চাচা হামযা, আর যিনি তলোয়ার নিয়ে নবীজিকে খুঁজতে বেরিয়েছিলেন, সেই উমর।

৬ দৃশ্য৪ হাদিস৫ আয়াত

সীরাত · মক্কী যুগ৬১৬ খ্রি. · নবুয়তের ৬ষ্ঠ বছর (প্রসিদ্ধ মত)

কখন
নবুয়তের ৬ষ্ঠ বছর (প্রসিদ্ধ মত); হামযা প্রথমে, কিছুদিন পর উমর
কোথায়
মক্কা: সাফার কাছে, কাবার চত্বর, দারুল আরকাম
কারা
হামযা ইবনু আবদিল মুত্তালিব, উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.), আবু জাহল
এই গল্পে
দুজনের ইসলাম গ্রহণ আর এর পর মুসলিমদের প্রকাশ্যে ইবাদত

কেন পড়বেন: যে মানুষটিকে সবাই ইসলামের সবচেয়ে কঠোর শত্রু ভাবত, তিনিই হলেন দ্বিতীয় খলিফা। এই গল্প শেখায়, কারও হেদায়াত নিয়ে কখনো নিরাশ হতে নেই, আর দোয়া ইতিহাস বদলে দেয়।

গল্প

বর্ণনার ভাষা আমাদের; প্রতিটি তথ্য নিচের সূত্র থেকে। প্রতিটি সূত্রের পাশে তার মান দেওয়া আছে, যাতে বোঝা যায় কোনটি সহিহ হাদিস আর কোনটি সীরাত গ্রন্থের ঐতিহাসিক বর্ণনা।

  1. ১

    এক দিন

    সাফার কাছে আবু জাহলের গালি

    সীরাতের বর্ণনায় আছে, একদিন সাফা পাহাড়ের কাছে আবু জাহল নবীজিকে (ﷺ) খুব খারাপ ভাষায় গালি দিল, কষ্ট দিল। নবীজি (ﷺ) কোনো জবাব দিলেন না, চুপ করে চলে গেলেন। কাছেই এক দাসী সব দেখছিল।

    সেদিন বিকেলে নবীজির (ﷺ) চাচা হামযা শিকার থেকে ফিরছিলেন, কাঁধে ধনুক। তিনি ছিলেন কুরাইশের সবচেয়ে শক্তিশালী ও সাহসী যুবকদের একজন। দাসী তাঁকে সব খুলে বলল।

    সূত্রইবনে হিশাম, আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ: হামযা (রা.)-এর ইসলাম (ইবনে ইসহাক থেকে) ঐতিহাসিক বর্ণনা

    নবীজি (ﷺ) গালির জবাবে গালি দেননি। আল্লাহ তাঁর হয়ে জবাব দেওয়ার জন্য অন্য কাউকে পাঠিয়ে দিলেন।

  2. ২

    সেদিনই

    ধনুকের আঘাত: "আমিও তাঁর ধর্মে"

    হামযা রাগে সোজা কাবার চত্বরে গেলেন, যেখানে আবু জাহল লোকজন নিয়ে বসে ছিল। ধনুক দিয়ে তার মাথায় সজোরে আঘাত করে বললেন: তুমি তাঁকে গালি দাও, অথচ আমিও তাঁর ধর্মে আছি, তিনি যা বলেন আমিও তা বলি? পারলে আমাকে জবাব দাও! বনু মাখযুমের লোকেরা উঠে দাঁড়াল, কিন্তু আবু জাহল নিজেই থামাল: ছেড়ে দাও, আমি সত্যিই তার ভাতিজাকে খুব খারাপ গালি দিয়েছি।

    কথাটা রাগের মাথায় বলা, কিন্তু এরপর হামযা (রা.) সত্যিই ইসলামে অটল হলেন। কুরাইশ বুঝল, এখন থেকে নবীজির (ﷺ) পাশে একজন শক্ত মানুষ আছেন, আর কিছু অত্যাচার কমিয়ে দিল। পরে উহুদের যুদ্ধে তিনি শহীদ হন।

    সূত্রইবনে হিশাম, আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ: আবু জাহলকে আঘাত ও হামযার (রা.) ঘোষণা ঐতিহাসিক বর্ণনা

    আত্মীয়তার টান দিয়ে শুরু, কিন্তু টিকে থাকে ঈমান দিয়ে। আল্লাহ মানুষকে নানা দরজা দিয়ে হেদায়াতের পথে আনেন।

  3. ৩

    সেই দিনগুলোতে

    নবীজির (ﷺ) একটি দোয়া

    এ সময় নবীজি (ﷺ) মক্কার দুই প্রভাবশালী শত্রুর একজনের হেদায়াতের জন্য দোয়া করছিলেন:

    اللَّهُمَّ أَعِزَّ الإِسْلاَمَ بِأَحَبِّ هَذَيْنِ الرَّجُلَيْنِ إِلَيْكَ بِأَبِي جَهْلٍ أَوْ بِعُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ وَكَانَ أَحَبَّهُمَا إِلَيْهِ عُمَرُ

    রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দোয়া করলেন: হে আল্লাহ, এই দুজনের মধ্যে যে তোমার কাছে বেশি প্রিয়, তাকে দিয়ে ইসলামকে শক্তি দাও: আবু জাহল, অথবা উমার ইবনুল খাত্তাব। (ইবনু উমার) বলেন: দুজনের মধ্যে আল্লাহর কাছে বেশি প্রিয় ছিলেন উমার।

    জামে আত-তিরমিযী ৩৬৮১সহিহবর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রা.)

    উমর তখন ইসলামের ঘোর বিরোধী। তাঁর নিজের চাচাতো ভাই ও ভগ্নিপতি সাঈদ ইবনু যায়দ (রা.) মুসলিম হলে উমর তাঁকে বেঁধে রেখেছিলেন:

    وَاللَّهِ لَقَدْ رَأَيْتُنِي وَإِنَّ عُمَرَ لَمُوثِقِي عَلَى الإِسْلاَمِ قَبْلَ أَنْ يُسْلِمَ عُمَرُ

    আল্লাহর কসম, আমি দেখেছি, উমার ইসলাম গ্রহণের আগে ইসলামের কারণে আমাকে বেঁধে রেখেছিলেন।

    সহিহ বুখারী ৩৮৬২সহিহবর্ণনাকারী: সাঈদ ইবনু যায়দ (রা.)

    সূত্রজামে আত-তিরমিযী ৩৬৮১ সহিহসহিহ বুখারী ৩৮৬২ সহিহ

    যাঁর জন্য দোয়া করা হচ্ছিল, তিনি তখন মুসলিমদের বেঁধে রাখছিলেন। দোয়ার সময় মানুষের বর্তমান দেখে হিসাব করতে নেই।

  4. ৪

    উমরের ইসলামের দিন (প্রসিদ্ধ বর্ণনা)

    বোনের ঘরে কুরআনের আয়াত

    উমরের (রা.) ইসলাম গ্রহণের যে বিবরণ সবচেয়ে প্রসিদ্ধ, তা ইবনে ইসহাক ও অন্যরা এনেছেন; এর সনদ দুর্বল, তবে সীরাতবিদরা ইতিহাস হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বিবরণটি এমন:

    উমর তলোয়ার নিয়ে নবীজিকে (ﷺ) খুঁজতে বের হলেন। পথে একজন বলল: আগে নিজের ঘর সামলাও, তোমার বোন ফাতিমা আর ভগ্নিপতি সাঈদ মুসলিম হয়ে গেছে। উমর বোনের ঘরে গিয়ে শুনলেন, ভেতরে খাব্বাব (রা.) তাঁদের সূরা ত্বাহা পড়াচ্ছেন। রাগে ভগ্নিপতিকে মারলেন; বোন বাধা দিতে এলে তাঁকেও আঘাত করলেন, তাঁর মুখ রক্তাক্ত হলো। বোন বললেন: যা করার করো, আমরা মুসলিম হয়েছি।

    বোনের রক্ত দেখে উমরের মন নরম হলো। লেখা পাতাটা চাইলেন, পবিত্র হয়ে পড়লেন সূরা ত্বাহার শুরু:

    مَا أَنزَلْنَا عَلَيْكَ الْقُرْآنَ لِتَشْقَىٰ

    আপনি কষ্ট-ক্লেশে পতিত হন – এ জন্য আমরা আপনার প্রতি কুরআন নাযিল করিনি:

    পড়তে পড়তে বললেন: কী সুন্দর, কী মহান কথা! তারপর গেলেন দারুল আরকামে, নবীজির (ﷺ) কাছে, আর কালিমা পড়লেন।

    আরেকটি বর্ণনায় আছে, তিনি কাবার কাছে নবীজিকে (ﷺ) সূরা আল-হাক্কাহ পড়তে শুনে প্রভাবিত হন; এর সনদও বিচ্ছিন্ন। দুই বর্ণনাই দুর্বল, কিন্তু যা নিশ্চিত: বোন ও ভগ্নিপতি আগেই মুসলিম ছিলেন (সহিহ বুখারী ৩৮৬২), আর উমর মুসলিম হয়েছিলেন নবীজির (ﷺ) দোয়ার ফলে (জামে আত-তিরমিযী ৩৬৮১)।

    সূত্রইবনে হিশাম, আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ: উমরের (রা.) ইসলাম, বোনের ঘরের ঘটনা (ইবনে ইসহাক থেকে); সনদ দুর্বল ঐতিহাসিক বর্ণনামুসনাদে আহমাদ: কাবার কাছে সূরা হাক্কাহ শোনার বর্ণনা; সনদ বিচ্ছিন্ন দুর্বলসূরা ত্বা-হা ২০:২ কুরআন

    বোনের অবিচলতা ভাইয়ের হৃদয়ের দরজা খুলে দিল। মার খেয়েও যিনি ঈমান ছাড়েন না, তাঁর দৃঢ়তাই সবচেয়ে বড় দাওয়াত।

  5. ৫

    ইসলাম গ্রহণের পর

    "কেউ তার গায়ে হাত দিতে পারবে না"

    উমর (রা.) ইসলাম গ্রহণ করেছেন, এ খবর মক্কায় ছড়িয়ে পড়ল। উত্তেজিত মানুষ তাঁর বাড়ির দিকে ছুটল। তাঁর ছেলে আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রা.) সেই দিনের কথা বলেছেন:

    (ইসলাম গ্রহণের পর) উমার ভয়ে ঘরে ছিলেন। তখন আস ইবনু ওয়াইল আস-সাহমী এলেন; বনু সাহম ছিল জাহিলিয়াতে আমাদের মিত্র। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: তোমার কী হয়েছে? উমার বললেন: তোমার গোত্রের লোকেরা বলছে, আমি মুসলিম হয়েছি বলে তারা আমাকে হত্যা করবে। তিনি বললেন: তোমার গায়ে কেউ হাত দিতে পারবে না। এ কথা শোনার পর আমি নিশ্চিন্ত হলাম। আস বের হয়ে দেখলেন, উপত্যকা ভরে মানুষ আসছে। জিজ্ঞেস করলেন: কোথায় যাচ্ছ? তারা বলল: খাত্তাবের এই ছেলেটার কাছে, যে ধর্ম বদলেছে। তিনি বললেন: তার গায়ে কেউ হাত দিতে পারবে না। তখন লোকেরা ফিরে গেল।

    সহিহ বুখারী ৩৮৬৪সহিহবর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রা.)

    সূত্রসহিহ বুখারী ৩৮৬৪ সহিহ

    আল্লাহ তাঁর বান্দাকে রক্ষা করেন, কখনো এমন মানুষ দিয়ে, যে নিজে ঈমানই আনেনি।

  6. ৬

    এরপর

    কাবার চত্বরে প্রকাশ্যে নামাজ

    উমরের (রা.) ইসলামের পর মুসলিমদের অবস্থা বদলে গেল। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রা.) বলেন:

    مَا زِلْنَا أَعِزَّةً مُنْذُ أَسْلَمَ عُمَرُ‏

    উমার ইসলাম গ্রহণের পর থেকে আমরা সবসময় সম্মান ও শক্তির মধ্যে আছি।

    সহিহ বুখারী ৩৮৬৩সহিহবর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রা.)

    ইবনু মাসউদ (রা.)-এর আরেক বর্ণনায় আছে, উমর মুসলিম হওয়ার আগে আমরা কাবার কাছে প্রকাশ্যে নামাজ পড়তে পারতাম না; তিনি মুসলিম হয়ে কুরাইশের সাথে লড়লেন, তখন আমরা সেখানে নামাজ পড়লাম। পরে তাঁর উপাধি হয় আল-ফারূক, মানে সত্য আর মিথ্যার পার্থক্যকারী।

    কুরআনে আল্লাহ বলেছেন:

    يَقُولُونَ لَئِن رَّجَعْنَا إِلَى الْمَدِينَةِ لَيُخْرِجَنَّ الْأَعَزُّ مِنْهَا الْأَذَلَّ ۚ وَلِلَّهِ الْعِزَّةُ وَلِرَسُولِهِ وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَلَـٰكِنَّ الْمُنَافِقِينَ لَا يَعْلَمُونَ

    তারা বলে, ‘আমরা মদীনায় ফিরে আসলে সেখান থেকে শক্তিশালীরা অবশ্যই দুর্বলদেরকে বের করে দেবে।’ অথচ শক্তি-সম্মান তো আল্লাহরই, আর তাঁর রাসূল ও মুমিনদের। কিন্তু মুনাফিকরা এটা জানে না।

    সূত্রসহিহ বুখারী ৩৮৬৩ সহিহইবনে সাদ, আত-তাবাকাতুল কুবরা: উমরের (রা.) ইসলাম ও কাবায় প্রকাশ্যে নামাজ; আল-ফারূক উপাধি ঐতিহাসিক বর্ণনাসূরা আল-মুনাফিকূন ৬৩:৮ কুরআন

    সম্মান আসে আল্লাহর আনুগত্যে। যে উমর আগে মুসলিমদের ভয় দেখাতেন, ইসলামের পর তিনিই হলেন তাঁদের সাহস।

প্রচলিত কিন্তু প্রমাণিত নয়

এই ঘটনা নিয়ে ওয়াজ আর বইয়ে অনেক কথা ছড়ানো আছে। নিচের কথাগুলোর সূত্র দুর্বল বা নেই; ভালোবাসার জায়গা থেকে বলা হলেও নবীজির (ﷺ) নামে অপ্রমাণিত কথা বলা থেকে সাবধান থাকা জরুরি (সহিহ বুখারী ১১০)।

ভিত্তিহীন জাহিলিয়াতে উমর (রা.) নিজের মেয়েকে জীবন্ত কবর দিয়েছিলেন

আমাদের জানামতে কোনো হাদিসগ্রন্থ বা প্রাচীন নির্ভরযোগ্য ইতিহাসগ্রন্থে এর সনদ নেই। বরং তাঁর বড় মেয়ে হাফসা (রা.) নবুয়তের আগেই জন্মেছেন এবং বড় হয়ে নবীজির (ﷺ) স্ত্রী হয়েছেন। বিস্তারিত: টাইমলাইনে এই দাবির যাচাই।

খুবই দুর্বল উমর (রা.) মুসলিম হলে জিবরীল এসে বললেন: আসমানবাসীরা উমরের ইসলামে আনন্দিত

সুনানে ইবনে মাজাহ ১০৩-এ বর্ণনাটি আছে, কিন্তু আলবানী, শুআইব আরনাউত ও মুহাম্মাদ ফুআদ আব্দুল বাকী একে খুবই দুর্বল বলেছেন। উমরের (রা.) মর্যাদা প্রমাণে সহিহ হাদিসই যথেষ্ট (সহিহ বুখারী ৩৮৬৩, জামে আত-তিরমিযী ৩৬৮১)।

ভুল বোঝা বোনের ঘরে সূরা ত্বাহা পড়ার ঘটনা সহিহ হাদিসে আছে

ঘটনাটি সীরাত গ্রন্থের প্রসিদ্ধ বর্ণনা, কিন্তু এর সনদ দুর্বল; সহিহ বুখারী বা মুসলিমে এই বিবরণ নেই। গল্প হিসেবে বলা যায়, কিন্তু "সহিহ হাদিসে আছে" বলা ঠিক নয়। নিশ্চিত শুধু এটুকু: বোন ও ভগ্নিপতি আগে মুসলিম হয়েছিলেন (সহিহ বুখারী ৩৮৬২)।

এই গল্প থেকে আমার জীবনে

গল্প পড়ার উদ্দেশ্য শুধু জানা নয়, জীবনে আনা। একটি বেছে নিয়ে আজই শুরু করুন; অল্প হলেও নিয়মিত আমল আল্লাহর কাছে প্রিয়।

নাম ধরে হেদায়াতের দোয়া

নবীজি (ﷺ) সবচেয়ে কঠোর দুই শত্রুর নাম ধরে দোয়া করেছিলেন, আর সেই দোয়ায় এলেন উমর (রা.)।

আজকের কাজ: আজ এমন একজনের নাম ধরে হেদায়াতের দোয়া করুন, যাকে আপনি দ্বীন থেকে সবচেয়ে দূরে মনে করেন।

জামে আত-তিরমিযী ৩৬৮১ সহিহ

কাউকে চিরতরে বাতিল না করা

যিনি মুসলিমদের বেঁধে রাখতেন, তিনিই হলেন "আল-ফারূক"। আল্লাহ বলেছেন, তাঁর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না।

আজকের কাজ: কারও অতীতের কারণে মনে যে ঘৃণা বা হতাশা পুষে রেখেছেন, আজ তার সাথে একটা সুন্দর আচরণ দিয়ে সেটা ভাঙুন।

সহিহ বুখারী ৩৮৬২ সহিহসূরা আয-যুমার ৩৯:৫৩ কুরআন

নিজের শক্তি দুর্বলের পক্ষে

হামযা (রা.) তাঁর সাহস আর প্রভাব ব্যবহার করেছিলেন অপমানিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে।

আজকের কাজ: আপনার পদ, পরিচিতি বা কথার প্রভাব দিয়ে আজ একজন দুর্বল মানুষের একটা হক আদায়ে সাহায্য করুন।

সূরা আন-নিসা ৪:৭৫ কুরআন

কুরআন হৃদয় নরম করে

প্রসিদ্ধ বর্ণনায়, কয়েকটি আয়াত পড়েই উমরের (রা.) কঠিন হৃদয় গলে গিয়েছিল। আল্লাহ বলেছেন, পাহাড়ে কুরআন নাজিল হলে তা বিনীত হয়ে ফেটে যেত।

আজকের কাজ: মন শক্ত হয়ে গেছে মনে হলে আজ সূরা ত্বাহার প্রথম কয়েকটি আয়াত অর্থসহ পড়ুন বা মনোযোগ দিয়ে শুনুন।

সূরা ত্বা-হা ২০:২ কুরআনসূরা আল-হাশর ৫৯:২১ কুরআন

নিজেকে জিজ্ঞেস করুন

যে মানুষটি সকালে তলোয়ার নিয়ে বেরিয়েছিলেন, দিনের শেষে তিনিই হলেন ইসলামের শক্তি। আপনার চারপাশে কাকে আপনি মনে মনে "এর কখনো হেদায়াত হবে না" বলে বাদ দিয়ে রেখেছেন? আজ তার জন্য একবার দোয়া করবেন?

সূত্রের মান কীভাবে দেখানো হয়েছে
  • কুরআন সবচেয়ে নিশ্চিত সূত্র।
  • সহিহ হাসান হাদিস বিশারদদের যাচাইয়ে গ্রহণযোগ্য হাদিস; আকীদা ও আমলে দলিল।
  • ঐতিহাসিক বর্ণনা ইবনে ইসহাক, ইবনে হিশাম, ইবনে সাদ, তাবারী, ইবনে কাসীরের মতো প্রাচীন সীরাত ও ইতিহাস গ্রন্থের বর্ণনা, যার সনদ নেই বা দুর্বল, কিন্তু কুরআন-সুন্নাহর বিরোধী নয়; সীরাতবিদরা ইতিহাস হিসেবে নিয়েছেন। এ দিয়ে আকীদা বা বিধান প্রমাণ করা হয় না।
  • মান নিয়ে মতভেদ মুহাদ্দিসদের কেউ গ্রহণযোগ্য, কেউ দুর্বল বলেছেন; দুই মতই উল্লেখ করা হয়।
  • দুর্বল জাল / ভিত্তিহীন প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়; শুধু সতর্ক করতে উল্লেখ।

সূত্র বাছাইয়ের পুরো নিয়ম: সূত্র নীতি।

deenpedia.com · https://deenpedia.com/sirat/hamza-umar/
deenpediaকুরআন ও সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য পাঠাগার
deenpedia.com · কুরআন ও সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য পাঠাগার