ইমাম পরিচিতি · সীরাত ও ইতিহাস
ইমাম তাবারী
محمد بن جرير الطبري
তাফসীর ও তারীখের ইমাম
আবু জাফর মুহাম্মাদ ইবনু জারীর ইবনি ইয়াযীদ আত-তাবারী
সাত বছর বয়সে কুরআন হিফয করা এই আলেম সনদসহ সবচেয়ে বড় তাফসীর আর ইতিহাস লিখেছেন। তবে তাঁর নিজের কথাই হলো: আমি যা শুনেছি তা সনদসহ দিয়েছি, যাচাইয়ের দায় পাঠকের।
- জন্ম
- ২২৪ হিজরির শেষে বা ২২৫-এর শুরুতে (৮৩৯ খ্রি.)
- জন্মস্থান
- আমুল, তাবারিস্তান · আজকের ইরান (মাযানদারান)
- মৃত্যু
- ২৬ শাওয়াল ৩১০ হিজরি (৯২৩ খ্রি.)
- কোথায়
- বাগদাদ
- বয়স
- ৮৬ বছর
- প্রধান গ্রন্থ
- জামিউল বায়ান (তাফসীর) ও তারীখুর রুসুল ওয়াল মুলূক جامع البيان
পরিবার ও শৈশব
তাবারিস্তানের আমুল শহরে জন্ম, আজকের ইরানের কাস্পিয়ান সাগরের তীরে। তিনি নিজে বলেছেন: সাত বছরে কুরআন হিফয করেছি, আট বছরে মানুষের ইমামতি করেছি, নয় বছরে হাদিস লিখেছি (সিয়ার, খণ্ড ১৪; ইয়াকূত, মুজামুল উদাবা)। বাবা জমির আয় থেকে তাঁর সফরের খরচ পাঠাতেন।
শিক্ষা ও জ্ঞানের সফর
রায়, বাগদাদ, বসরা, কূফা, শাম ও মিসরে সফর করে শেষে বাগদাদে স্থায়ী হন। কখনো বিচারকের পদ নেননি, শাসকের উপহারও সাধারণত ফিরিয়ে দিতেন (তারীখে বাগদাদ)।
শিক্ষক
- মুহাম্মাদ ইবনু হুমাইদ আর-রাযী
- হান্নাদ ইবনুস সারী
- আবু কুরাইব
- ইউনুস ইবনু আব্দিল আ'লা (মিসরে)
ছাত্র
- আত-তাবারানী
- ইবনু আদী
- আবু বকর ইবনু কামিল
যেভাবে কাজ করেছেন
- ১সনদসহ সব মত
তাফসীরে প্রতিটি আয়াতের ব্যাপারে সাহাবি ও তাবিঈদের সব মত সনদসহ এনে, শেষে কোনটি বেশি সঠিক তা নিজে বলেছেন।
- ২ইতিহাসে দায় সনদের
তারীখের ভূমিকায় লিখেছেন: এই বইয়ে এমন কিছু থাকতে পারে যা পাঠক অদ্ভুত মনে করবেন; তা আমাদের দিক থেকে নয়, যাঁরা বর্ণনা করেছেন তাঁদের দিক থেকে, আমরা যেভাবে পেয়েছি সেভাবে দিয়েছি।
তাঁর গ্রন্থ: জামিউল বায়ান (তাফসীর) ও তারীখুর রুসুল ওয়াল মুলূক
জামিউল বায়ান আন তাবীলি আইয়িল কুরআন: সনদসহ সবচেয়ে পুরনো পূর্ণ তাফসীর; পরের প্রায় সব তাফসীর, ইবনু কাসীরসহ, এর ওপর নির্ভর করেছে।
তারীখুর রুসুল ওয়াল মুলূক: সৃষ্টি থেকে ৩০২ হিজরি পর্যন্ত ইতিহাস। এতে আবু মিখনাফ, সাইফ ইবনু উমারের মতো দুর্বল বর্ণনাকারীর বহু বর্ণনা আছে। তাই "তাবারীতে আছে" মানেই সঠিক নয়; সাহাবিদের মধ্যকার ঘটনা বিশেষ করে সনদ দেখে পড়তে হয়।
পরীক্ষা ও শেষ জীবন
কিছু উগ্র লোক তাঁর বিরুদ্ধে অপবাদ ছড়িয়েছিল, ফলে শেষ জীবনে তাঁর কাছে লোকজন আসা-যাওয়ায় বাধা পড়ে। ৩১০ হিজরির শাওয়ালে বাগদাদে তিনি মারা যান, নিজের বাড়িতে দাফন হন (তারীখে বাগদাদ; সিয়ার, খণ্ড ১৪)।
আলেমদের চোখে
তিনি ছিলেন আলেমদের ইমামদের একজন; তাঁর কথায় বিচার হতো, আর তাঁর জ্ঞান ও মর্যাদার কারণে মানুষ তাঁর মতের দিকে ফিরত।
খতীব বাগদাদী · তারীখে বাগদাদ
জীবনের সময়রেখা
| হিজরি | খ্রিস্টাব্দ | ঘটনা | সূত্র |
|---|---|---|---|
| ২২৪/২২৫ | ৮৩৯ | আমুলে জন্ম | সিয়ার, খণ্ড ১৪ |
| যৌবনে | — | জ্ঞানের সফর শুরু | মুজামুল উদাবা |
| ৩০২-এর পরে | ৯১৫ | তারীখ লেখা শেষ | তারীখুর রুসুল ওয়াল মুলূক |
| ৩১০ | ৯২৩ | বাগদাদে ইন্তেকাল | সিয়ার, খণ্ড ১৪ |
সূত্র
- যাহাবী, সিয়ারু আলামিন নুবালা
খণ্ড ১৪, পৃ. ২৬৭ থেকে - খতীব বাগদাদী, তারীখে বাগদাদ
মুহাম্মাদ ইবনু জারীর - ইয়াকূত আল-হামাউই, মুজামুল উদাবা
তাবারীর বিস্তারিত জীবনী - তাবারী, তারীখুর রুসুল ওয়াল মুলূকের ভূমিকা
নিজের পদ্ধতি
সিয়ারের খণ্ড ও পৃষ্ঠা মুআসসাসাতুর রিসালাহ সংস্করণ অনুযায়ী। হাদিসের সংখ্যা সংস্করণ ও গণনার ধরনভেদে কিছুটা আলাদা হয়; কোন সংস্করণের সংখ্যা, তা পাশে লেখা। জন্মসাল বা মৃত্যুস্থান নিয়ে মতভেদ থাকলে দুই মতই দেওয়া হয়েছে। কোনো ভুল চোখে পড়লে জানান, সূত্রসহ সংশোধন করা হবে। আরও দেখুন: সূত্র নীতি।