ইমাম পরিচিতি · আধুনিক মান নির্ধারক ও সম্পাদক
শাইখ নাসিরুদ্দীন আলবানী
محمد ناصر الدين الألباني
বিশ শতকের প্রধান মুহাদ্দিস; এই সাইটে সুনান গ্রন্থের মান তাঁর রায়ে
আবু আব্দির রহমান মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন ইবনুল হাজ্জ নূহ নাজাতী আল-আলবানী
ঘড়ি মেরামত করে সংসার চালাতেন, আর দিনের বাকি সময় দামেশকের যাহিরিয়া গ্রন্থাগারে হাতে লেখা পাণ্ডুলিপি ঘেঁটে হাদিসের মান যাচাই করতেন। এই সাইটে সুনান গ্রন্থের প্রতিটি হাদিস তাঁর রায়ে মিলিয়ে নেওয়া হয়।
- জন্ম
- ১৯১৪ খ্রি. (১৩৩২ হি.)
- জন্মস্থান
- শকোদরা (ইশকোদরা) · আজকের আলবেনিয়া
- মৃত্যু
- ২ অক্টোবর ১৯৯৯ খ্রি. (২২ জুমাদাল আখিরাহ ১৪২০ হি.)
- কোথায়
- আম্মান, জর্ডান
- বয়স
- প্রায় ৮৫ বছর
- প্রধান গ্রন্থ
- সিলসিলাতুল আহাদীসিস সহীহাহ ও আদ-দঈফাহ السلسلتان
পরিবার ও শৈশব
আলবেনিয়ার শকোদরা শহরে জন্ম। বাবা নূহ নাজাতী ছিলেন ইস্তাম্বুলে পড়া হানাফী আলেম। আহমাদ যোগুর ধর্মবিরোধী শাসন শুরু হলে পরিবার দ্বীন রক্ষার জন্য দামেশকে হিজরত করে, তখন তাঁর বয়স নয়ের মতো। দামেশকে বাবার কাছে কুরআন, তাজবীদ ও হানাফী ফিকহ শেখেন, আর বাবার কাছ থেকে ঘড়ি মেরামতের কাজ শিখে সেটাই পেশা বানান (মুহাম্মাদ ইবরাহীম আশ-শাইবানী, হায়াতুল আলবানী)।
শিক্ষা ও জ্ঞানের সফর
প্রায় বিশ বছর বয়সে রশীদ রিদার "আল-মানার" পত্রিকায় ইহইয়াউ উলূমিদ্দীনের হাদিস যাচাইয়ের একটি লেখা পড়ে হাদিস বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ জাগে। এরপর যাহিরিয়া গ্রন্থাগারে প্রতিদিন দীর্ঘ সময় কাটাতেন; গ্রন্থাগার তাঁকে আলাদা একটি কক্ষ দিয়েছিল। ১৯৬১-১৯৬৩ সালে মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে হাদিস পড়ান। পরে দামেশক থেকে জর্ডানের আম্মানে চলে যান (হায়াতুল আলবানী)।
শিক্ষক
- বাবা হাজ্জ নূহ নাজাতী (হানাফী ফিকহ)
- শাইখ সাঈদ আল-বুরহানী (ফিকহ ও ব্যাকরণ)
- মূলত নিজে নিজে পাণ্ডুলিপি থেকে; মুহাম্মাদ রাগিব আত-তাব্বাখের কাছ থেকে হাদিস বর্ণনার অনুমতি (ইজাযাহ)
ছাত্র
- শাইখ আলী হাসান আল-হালাবী
- শাইখ মাশহূর হাসান আলে সালমান
- শাইখ মুকবিল আল-ওয়াদিঈ (মদিনায়)
- আরও বহু
যেভাবে কাজ করেছেন
- ১প্রতিটি সনদ আলাদা দেখা
একটি হাদিসের সব সূত্র জোগাড় করে প্রতিটি বর্ণনাকারীর মান রিজালের বই থেকে বের করে, তারপর সামগ্রিক রায় দিতেন; সূত্রগুলো একে অপরকে শক্তি দেয় কি না তাও দেখতেন।
- ২দুই তালিকা
"সিলসিলাতুস সহীহাহ"-এ সহিহ হাদিস, "সিলসিলাতুদ দঈফাহ"-এ দুর্বল ও জাল হাদিস, প্রতিটির দীর্ঘ যাচাইসহ।
- ৩সুনানের মান
"সহিহ ও দঈফ সুনানি আবী দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনি মাজাহ"-এ সুনানের প্রতিটি হাদিসের মান।
- ৪নিজের ভুল সংশোধন
নতুন সূত্র পেলে আগের রায় বদলে দিতেন এবং তা প্রকাশ্যে লিখতেন; তাঁর এই "তারাজুআত" (সংশোধন) নিয়ে আলাদা বইও আছে।
তাঁর কাজ: সিলসিলাতুল আহাদীসিস সহীহাহ ও আদ-দঈফাহ
প্রধান বই: সিলসিলাতুল আহাদীসিস সহীহাহ, সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দঈফাহ ওয়াল মাওদূআহ, ইরওয়াউল গালীল, সহিহ ও দঈফ আল-জামিইস সাগীর, সিফাতু সালাতিন নাবী ﷺ, সুনান গ্রন্থের সহিহ-দঈফ।
এই সাইটে কেন তাঁর রায়: সুনান গ্রন্থের সব হাদিসে একই মানদণ্ডের একজনের রায় পাওয়া যায়, আর তা ছাপা আকারে সহজে মেলানো যায়। তবে আলেমরা কিছু হাদিসে তাঁর সাথে ভিন্নমত করেছেন; তাই প্রতিটি হাদিসের পাতায় শুআইব আল-আরনাঊত, যুবাইর আলী যাঈসহ অন্যদের মানও দেখানো হয়। কোনো মুহাদ্দিসই ভুলের ঊর্ধ্বে নন।
শেষ জীবন
নিজের মতের কারণে সিরিয়ায় দুবার কিছুদিন বন্দি ছিলেন (১৯৬৭ ও ১৯৬৯ সালের দিকে), বন্দি অবস্থায়ও সহিহ মুসলিমের সংক্ষেপ নিয়ে কাজ করেছেন (হায়াতুল আলবানী)। ১৯৯৯ সালে বাদশাহ ফয়সাল আন্তর্জাতিক পুরস্কার পান। ১৯৯৯ সালের ২ অক্টোবর আম্মানে মারা যান; ওসিয়ত অনুযায়ী দ্রুত দাফন করা হয়, আর তাঁর গ্রন্থাগার মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে দান করা হয়।
আলেমদের চোখে
আকাশের নিচে আমি আজ আলবানীর চেয়ে বেশি হাদিস জানেন এমন কাউকে দেখি না।
শাইখ আব্দুল আযীয ইবনু বায · হায়াতুল আলবানী-তে উদ্ধৃত
জীবনের সময়রেখা
| হিজরি | খ্রিস্টাব্দ | ঘটনা | সূত্র |
|---|---|---|---|
| ১৯১৪ | ১৩৩২ | শকোদরায় জন্ম | হায়াতুল আলবানী |
| প্রায় ১৯২৩ | ১৩৪২ | পরিবারের সাথে দামেশকে হিজরত | হায়াতুল আলবানী |
| ১৯৩০-এর দশক | — | আল-মানার পড়ে হাদিসে আগ্রহ; যাহিরিয়া গ্রন্থাগার | হায়াতুল আলবানী |
| ১৯৬১-১৯৬৩ | ১৩৮১-১৩৮৩ | মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা | হায়াতুল আলবানী |
| ১৯৯৯ | ১৪১৯ | বাদশাহ ফয়সাল পুরস্কার | পুরস্কারের সরকারি তালিকা |
| ১৯৯৯ | ১৪২০ | আম্মানে ইন্তেকাল | হায়াতুল আলবানী |
সূত্র
- মুহাম্মাদ ইবরাহীম আশ-শাইবানী, হায়াতুল আলবানী ওয়া আসারুহূ ওয়া সানাউল উলামা আলাইহি
জীবনী, দুই খণ্ড - আলবানী, সিলসিলাতুস সহীহাহ ও দঈফাহর ভূমিকা
নিজের পদ্ধতি - বাদশাহ ফয়সাল পুরস্কার, ইসলামী গবেষণা বিভাগ
১৯৯৯ (১৪১৯ হি.)
সিয়ারের খণ্ড ও পৃষ্ঠা মুআসসাসাতুর রিসালাহ সংস্করণ অনুযায়ী। হাদিসের সংখ্যা সংস্করণ ও গণনার ধরনভেদে কিছুটা আলাদা হয়; কোন সংস্করণের সংখ্যা, তা পাশে লেখা। জন্মসাল বা মৃত্যুস্থান নিয়ে মতভেদ থাকলে দুই মতই দেওয়া হয়েছে। কোনো ভুল চোখে পড়লে জানান, সূত্রসহ সংশোধন করা হবে। আরও দেখুন: সূত্র নীতি।