ইমাম পরিচিতি · আরও হাদিস গ্রন্থ
ইমাম ইবনু হিব্বান
ابن حبان البستي
সহিহ ইবনু হিব্বানের সংকলক
আবু হাতিম মুহাম্মাদ ইবনু হিব্বান ইবনি আহমাদ আত-তামীমী আল-বুস্তী
খোরাসান থেকে মিসর পর্যন্ত দুই হাজারের বেশি শিক্ষকের কাছে হাদিস শুনেছেন বলে বর্ণিত। তাঁর সহিহ গ্রন্থ বুখারী-মুসলিমের পরের স্তরের, তবে বর্ণনাকারী গ্রহণে তিনি কিছুটা নরম ছিলেন।
- জন্ম
- ২৭০-এর দশকে (নির্দিষ্ট সাল জানা নেই) (প্রায় ৮৮৪ খ্রি.)
- জন্মস্থান
- বুস্ত (সিজিস্তান) · আজকের আফগানিস্তান (লশকরগাহের কাছে)
- মৃত্যু
- শাওয়াল ৩৫৪ হিজরি (৯৬৫ খ্রি.)
- কোথায়
- বুস্ত
- বয়স
- আশির কাছাকাছি
- প্রধান গ্রন্থ
- সহিহ ইবনু হিব্বান التقاسيم والأنواع
পরিবার ও শৈশব
তিনি আরবের তামীম গোত্রের, জন্ম সিজিস্তানের বুস্ত শহরে, যা আজকের আফগানিস্তানের হেলমান্দ অঞ্চলে। জন্মসাল কোনো উৎসে নির্দিষ্ট করে নেই; যাহাবী বলেছেন ২৭০ হিজরির দশকে (সিয়ার, খণ্ড ১৬)।
শিক্ষা ও জ্ঞানের সফর
খোরাসান, ইরাক, হিজায, শাম, মিসর ও জাযীরায় সফর করেছেন। তিনি নিজে "আস-সহিহ"-এর ভূমিকায় লিখেছেন, শাশ থেকে আলেকজান্দ্রিয়া পর্যন্ত বহু শিক্ষকের কাছে লিখেছেন। নাইসাবূরে ইবনু খুযাইমার কাছে দীর্ঘ সময় শিখেছেন। সমরকন্দ ও নাসায় বিচারক ছিলেন, পরে বুস্তে ফিরে নিজের বাড়িকে ছাত্রদের জন্য গ্রন্থাগার বানিয়ে দেন (সিয়ার, খণ্ড ১৬)।
শিক্ষক
- ইবনু খুযাইমা (প্রধান শিক্ষক)
- আবু ইয়ালা আল-মাওসিলী
- আল-হাসান ইবনু সুফিয়ান
- আবু খলীফা আল-জুমাহী
ছাত্র
- আল-হাকিম আন-নাইসাবূরী
- মানসূর ইবনু আব্দিল্লাহ আল-খালিদী
যেভাবে কাজ করেছেন
- ১নতুন ধরনে সাজানো
বইটি ফিকহের অধ্যায়ে নয়, হাদিসের ধরন অনুযায়ী পাঁচ ভাগে সাজানো: আদেশ, নিষেধ, সংবাদ, বৈধ কাজ আর নবীজির (ﷺ) কাজ। তাই খুঁজে পাওয়া কঠিন ছিল; পরে ইবনু বালবান (মৃ. ৭৩৯ হি.) "আল-ইহসান" নামে ফিকহের অধ্যায়ে নতুন করে সাজান।
- ২শর্ত
ভূমিকায় শর্ত লিখেছেন: বর্ণনাকারী ন্যায়পরায়ণ, সত্যবাদী, যা বর্ণনা করছেন তা বোঝেন, আর তাদলীস (সনদ লুকানো) থেকে মুক্ত।
- ৩বর্ণনাকারীর বই
"আস-সিকাত" (নির্ভরযোগ্যদের তালিকা) আর "আল-মাজরূহীন" (দুর্বলদের তালিকা) লিখেছেন। "আস-সিকাত"-এ অনেক অপরিচিত বর্ণনাকারীকেও নির্ভরযোগ্য ধরেছেন; এই কারণে আলেমরা তাঁকে কিছুটা নরম বলেন।
তাঁর গ্রন্থ: সহিহ ইবনু হিব্বান
আস-সহিহ (পুরো নাম আল-মুসনাদুস সহীহ আলাত তাকাসীম ওয়াল আনওয়া)। শুআইব আল-আরনাঊতের সম্পাদিত "আল-ইহসান" সংস্করণে প্রায় সাড়ে সাত হাজার নম্বর।
মানের ব্যাপারে: আলেমরা একে ইবনু খুযাইমার সহিহর পরে আর আল-হাকিমের মুস্তাদরাকের আগে রাখেন। তবু এতে দুর্বল হাদিস আছে, তাই প্রতিটির আলাদা মান দেখতে হয়।
পরীক্ষা ও শেষ জীবন
৩৫৪ হিজরির শাওয়াল মাসে বুস্তে তিনি মারা যান (সিয়ার, খণ্ড ১৬)।
আলেমদের চোখে
তিনি ছিলেন ফিকহ, ভাষা, হাদিস ও ওয়াযের জ্ঞানের ভাণ্ডার, আর বুদ্ধিমানদের একজন।
আল-হাকিম · সিয়ার, খণ্ড ১৬
জীবনের সময়রেখা
| হিজরি | খ্রিস্টাব্দ | ঘটনা | সূত্র |
|---|---|---|---|
| ২৭০-এর দশক | ৮৮০-এর দশক | বুস্তে জন্ম | সিয়ার, খণ্ড ১৬ |
| যৌবনে | — | খোরাসান থেকে মিসর পর্যন্ত সফর | আস-সহিহের ভূমিকা |
| পরে | — | সমরকন্দ ও নাসায় বিচারক | সিয়ার, খণ্ড ১৬ |
| ৩৫৪ | ৯৬৫ | বুস্তে ইন্তেকাল | সিয়ার, খণ্ড ১৬ |
সূত্র
- যাহাবী, সিয়ারু আলামিন নুবালা
খণ্ড ১৬, পৃ. ৯২ থেকে - ইবনু হিব্বান, আস-সহিহের ভূমিকা
নিজের শর্ত ও পদ্ধতি - ইবনু বালবান, আল-ইহসান ফী তাকরীবি সহীহি ইবনি হিব্বান
শুআইব আল-আরনাঊতের সম্পাদনা, ভূমিকা
সিয়ারের খণ্ড ও পৃষ্ঠা মুআসসাসাতুর রিসালাহ সংস্করণ অনুযায়ী। হাদিসের সংখ্যা সংস্করণ ও গণনার ধরনভেদে কিছুটা আলাদা হয়; কোন সংস্করণের সংখ্যা, তা পাশে লেখা। জন্মসাল বা মৃত্যুস্থান নিয়ে মতভেদ থাকলে দুই মতই দেওয়া হয়েছে। কোনো ভুল চোখে পড়লে জানান, সূত্রসহ সংশোধন করা হবে। আরও দেখুন: সূত্র নীতি।